কারক কাকে বলে , কারক চেনার সহজ উপায়, কারক এর উদাহরণ

কারক কাকে বলে : বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

কারক কাকে বলে
কারক কাকে বলে

কারক কাকে বলে কত প্রকার

  • কর্তৃকারক: বাক্যে যে পদ ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্তৃকারক বলে। যেমন: আমি বই পড়ি। এখানে আমি ক্রিয়া সম্পাদন করছে। তাই আমি কর্তৃকারক।
  • কর্মকারক: বাক্যে যে পদ ক্রিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয় তাকে কর্মকারক বলে। যেমন: আমি বই পড়ি। এখানে বই ক্রিয়া দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। তাই বই কর্মকারক।
  • করণকারক: বাক্যে যে পদ ক্রিয়া সম্পাদন করার জন্য ব্যবহৃত হয় তাকে করণকারক বলে। যেমন: আমি কলম দিয়ে লেখা লিখি। এখানে কলম দিয়ে ক্রিয়া সম্পাদন করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই কলম দিয়ে করণকারক।
  • সম্প্রদান কারক: বাক্যে যে পদকে স্বত্ব ত্যাগ করে কিছু দেওয়া হয় তাকে সম্প্রদান কারক বলে। যেমন: আমি তোমাকে বই দিলাম। এখানে তোমাকে স্বত্ব ত্যাগ করে বই দেওয়া হচ্ছে। তাই তোমাকে সম্প্রদান কারক।
  • অপাদান কারক: বাক্যে যে পদ থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় তাকে অপাদান কারক বলে। যেমন: গাছ থেকে পাতা পড়ে। এখানে গাছ থেকে পাতা বিচ্যুত হচ্ছে। তাই গাছ থেকে অপাদান কারক।
  • অধিকরণ কারক: বাক্যে যে পদ ক্রিয়া সম্পাদনের আধার হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে। যেমন: আমি ঘরে বসে পড়া পড়ি। এখানে ঘরে ক্রিয়া সম্পাদনের আধার। তাই ঘরে অধিকরণ কারক।

কারক নির্ণয়ের কিছু নিয়ম:

  • প্রশ্ন পদ্ধতি: কারক নির্ণয়ের জন্য বাক্যের ক্রিয়াকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। যে প্রশ্নের উত্তর যে পদ দেয়, সেই পদ সেই কারক। যেমন: আমি বই পড়ি। এখানে বই পদকে প্রশ্ন করা হয় কী পড়ি? উত্তর বই। তাই বই কর্মকারক।
  • বিভক্তি পদ্ধতি: বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে যুক্ত বিভক্তির দ্বারাও কারক নির্ণয় করা যায়। যেমন: আমি বই পড়ি। এখানে বই পদে কে বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। তাই বই কর্মকারক।
  • অব্যয় পদ্ধতি: বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে যুক্ত অব্যয় দ্বারাও কারক নির্ণয় করা যায়। যেমন: আমি কলম দিয়ে লেখা লিখি। এখানে দিয়ে অব্যয় যুক্ত হয়েছে। তাই দিয়ে করণকারক।

বিভক্তি

বাক্যের বিভিন্ন পদকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য যেসব অব্যয়ের মতো শব্দ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। যেমন:

  • আমি বই পড়ি। (আমি হল কর্তৃকারক, বই হল কর্মকারক, -কে হল কর্মকারকের বিভক্তি)
  • ছাত্ররা খেলছে। (ছাত্ররা হল কর্তৃকারক, খেলছে হল ক্রিয়াপদ, -ছে হল কর্তৃকারকের বিভক্তি)

**বাংলা ভাষায় বিভক্তির সংখ্যা সাতটি। যথা:

  • প্রথমা বিভক্তি (-, -রা, -গণ)
  • দ্বিতীয়া বিভক্তি (-কে, -রে, -এ, -য়)
  • তৃতীয়া বিভক্তি (-দ্বারা, -র, -এর, -ই)
  • চতুর্থী বিভক্তি (-কে, -রে, -র, -এর)
  • পঞ্চমী বিভক্তি (-থে, – থেকে, -চেয়ে, – হতে)
  • ষষ্ঠী বিভক্তি (-র, -এর, -ই)
  • সপ্তমী বিভক্তি (-তে, -য়, -তে)

কারক বিভক্তি নির্ণয়ের নিয়ম

বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ক নির্ণয় করে কারক বিভক্তি নির্ণয় করা যায়।

  • ক্রিয়ার সাথে যুক্ত বিভক্তির দিকে লক্ষ্য করতে হবে।
  • ক্রিয়ার অর্থের দিকে লক্ষ্য করতে হবে।
  • ক্রিয়া সম্পাদনকারী, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান, অধিকরণ কারকের ক্ষেত্রে যথাক্রমে কর্তৃকারক, কর্মকারক, করণকারক, সম্প্রদানকারক, অপাদানকারক, অধিকরণকারক বিভক্তি যুক্ত হয়।

উদাহরণ:

  • আমি বই পড়ি।

এই বাক্যে,

  • ক্রিয়া: পড়ি
  • ক্রিয়ার বিভক্তি: -ি
  • ক্রিয়ার অর্থ: ক্রিয়া সম্পাদন করা

সুতরাং, বাক্যের পদগুলির মধ্যে সম্পর্ক নিম্নরূপ:

  • আমি: কর্তৃকারক (ক্রিয়া সম্পাদনকারী)
  • বই: কর্মকারক (ক্রিয়া সম্পাদনের বস্তু)

অন্য উদাহরণ:

  • মা আমাকে খাবার দিলেন।

এই বাক্যে,

  • ক্রিয়া: দিলেন
  • ক্রিয়ার বিভক্তি: -লেন
  • ক্রিয়ার অর্থ: দান করা

সুতরাং, বাক্যের পদগুলির মধ্যে সম্পর্ক নিম্নরূপ:

  • মা: কর্তৃকারক (ক্রিয়া সম্পাদনকারী)
  • আমাকে: সম্প্রদানকারক (ক্রিয়া সম্পাদনের উদ্দেশ্য)
  • খাবার: কর্মকারক (ক্রিয়া সম্পাদনের বস্তু)

কারক বিভক্তি নির্ণয়ের কিছু সাধারণ নিয়ম:

  • কর্তৃকারক: ক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত হয়।
  • কর্মকারক: ক্রিয়ার সাথে দ্বিতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়।
  • করণকারক: ক্রিয়ার সাথে তৃতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়।
  • সম্প্রদানকারক: ক্রিয়ার সাথে চতুর্থী বিভক্তি যুক্ত হয়।
  • অপাদানকারক: ক্রিয়ার সাথে পঞ্চমী বিভক্তি যুক্ত হয়।
  • অধিকরণকারক: ক্রিয়ার সাথে সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়।

উদাহরণ:

  • আমি বই পড়ি। (কর্তৃকারক + কর্মকারক)
  • মা আমাকে খাবার দিলেন। (কর্তৃকারক + সম্প্রদানকারক + কর্মকারক)
  • ছেলেটা কলম দিয়ে লিখছে। (কর্তৃকারক + করণকারক)
  • সরকার জনগণের জন্য কাজ করে। (কর্তৃকারক + সম্প্রদানকারক)
  • ছাত্রটি ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। (কর্তৃকারক + অপাদানকারক)
  • আমি স্কুলে যাচ্ছি। (কর্তৃকারক + অধিকরণকারক)

কারক চেনার সহজ উপায়:

  • কর্তৃকারক: বাক্যে যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বলা হয় কর্তা। বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে কর্তার যে সম্পর্ক, তাকেই বলা হয় কর্তৃ কারক। কর্তৃ কারক চেনার সহজ উপায় হল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে ‘কে’ বা ‘কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় সেটিই কর্তৃ কারক।

উদাহরণ:

  • বাক্য: সূর্য উঠেছে।
  • প্রশ্ন: কে/কারা উঠেছে?
  • উত্তর: সূর্য
  • কর্মকারক: বাক্যে যে কাজ করা হয় তাকে বলা হয় কর্ম। বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে কর্মের যে সম্পর্ক, তাকেই বলা হয় কর্মকারক। কর্মকারক চেনার সহজ উপায় হল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে ‘কী’ বা ‘কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় সেটিই কর্মকারক।

উদাহরণ:

  • বাক্য: শিশুটি খেলছে।
  • প্রশ্ন: শিশুটি কী করছে?
  • উত্তর: খেলছে
  • করণকারক: যে মাধ্যম বা উপায়ে কাজ করা হয় তাকে বলা হয় করণ। বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে করণের যে সম্পর্ক, তাকেই বলা হয় করণকারক। করণকারক চেনার সহজ উপায় হল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে ‘কী দিয়ে/কীসের দ্বারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় সেটিই করণকারক।

উদাহরণ:

  • বাক্য: আমি কলম দিয়ে লিখছি।
  • প্রশ্ন: আমি কী দিয়ে লিখছি?
  • উত্তর: কলম দিয়ে
  • সম্প্রদানকারক: যে ব্যক্তি বা বস্তুর কাছে কিছু দেওয়া হয় তাকে বলা হয় সম্প্রদান। বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্প্রদানের যে সম্পর্ক, তাকেই বলা হয় সম্প্রদানকারক। সম্প্রদানকারক চেনার সহজ উপায় হল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে ‘কাকে/কীকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় সেটিই সম্প্রদানকারক।

উদাহরণ:

  • বাক্য: আমি তোমাকে বই দিলাম।
  • প্রশ্ন: আমি কাকে বই দিলাম?
  • উত্তর: তোমাকে
  • অপাদানকারক: যেখান থেকে কিছু নেওয়া হয় বা যেখানে কিছু ফেলে দেওয়া হয় তাকে বলা হয় অপাদান। বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে অপাদানের যে সম্পর্ক, তাকেই বলা হয় অপাদানকারক। অপাদানকারক চেনার সহজ উপায় হল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে ‘কোথা থেকে/কী থেকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় সেটিই অপাদানকারক।

উদাহরণ:

  • বাক্য: আমি বাড়ি থেকে বেরিয়েছি।
  • প্রশ্ন: আমি বাড়ি থেকে কোথা থেকে বেরিয়েছি?
  • উত্তর: বাড়ি থেকে
  • অধিকরণকারক: বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে যে বিশেষণ বা বিশেষ্য পদ যুক্ত থাকে তাকে বলা হয় অধিকরণ। অধিকরণকারক চেনার সহজ উপায় হল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে ‘কীভাবে/কী সময়/কী স্থানে/কী কারণে/কী উদ্দেশ্যে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণকারক।

উদাহরণ:

  • বাক্য: আমি দ্রুত গতিতে হাঁটছি।
  • প্রশ্ন: আমি কীভাবে হাঁটছি?
  • উত্তর: দ্রুত গতিতে

বিভক্তি প্রধান কারক কি?

বিভক্তি প্রধান কারক নয়। বিভক্তি একটি কারক নয়, বরং একটি বিভক্তি। বিভক্তি হলো একটি পদকে তার অর্থগত সম্পর্ক অনুসারে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করার একটি পদ্ধতি। বাংলা ভাষায় সাতটি বিভক্তি রয়েছে, যথা:

  • কর্তৃকারক
  • কর্মকারক
  • অপেক্ষার্থক কারক
  • ক্রিয়া-বিশেষণ কারক
  • সম্বন্ধ কারক
  • ব্যক্তিবাচক কারক
  • অব্যক্তিবাচক কারক

এই সাতটি কারকের প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। উদাহরণস্বরূপ, কর্তৃকারক কর্তৃপক্ষের অর্থ প্রকাশ করে, কর্মকারক কর্মের অর্থ প্রকাশ করে, এবং অপেক্ষার্থক কারক অপেক্ষার অর্থ প্রকাশ করে।

বিভক্তি প্রধান কারক নয় কারণ এটি একটি পদকে তার অর্থগত সম্পর্ক অনুসারে ভাগ করার একটি পদ্ধতি মাত্র। বিভক্তির কোনো অর্থগত সম্পর্ক নেই। উদাহরণস্বরূপ, “ছাত্রটিকে বইটি দিয়ে দাও” বাক্যে “ছাত্রটি” কর্তৃকারক, “বইটি” কর্মকারক এবং “দিতে” ক্রিয়া। এখানে “কে” বিভক্তি শুধুমাত্র কর্তৃকারককে কর্মকারকের সাথে যুক্ত করছে। এটি কোনো অর্থগত সম্পর্ক প্রকাশ করছে না।

  • মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে, সে মুখ্য কর্তা। যেমন- আমি বই পড়ছি।
  • প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে। যেমন- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
  • প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তার করণীয় কাজ যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে। যেমন- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা তিন রকমের হতে পারে:

  • কর্মবাচ্যের কর্তা: কর্মপদের প্রাধান্যসূচক বাক্যে বসে। যেমন- পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
  • ভাববাচ্যের কর্তা: ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্যে বসে। যেমন- আমার যাওয়া হবে না।
  • কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা: বাক্যে কর্মপদই যখন কর্তৃস্থানীয় হয়। যেমন- বাঁশি বাজে।

উদাহরণ:

  • মুখ্য কর্তা: ছেলেরা ফুটবল খেলছে।
  • প্রযোজক কর্তা: মা ছাত্রকে খাওয়াচ্ছেন।
  • প্রযোজ্য কর্তা: ছাত্ররা মায়ের হাতে খাচ্ছে।
  • কর্মবাচ্যের কর্তা: পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
  • ভাববাচ্যের কর্তা: আমার যাওয়া হবে না।
  • কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা: বাঁশি বাজে।

বিভক্তির গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি নিম্নরূপ:

  • ক্রিয়ার সাথে নামপদের সম্পর্ক স্থাপন করা: বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে নামপদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। যেমন-
    • কর্তৃকারক বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে কর্তৃপদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
    • কর্মকারক বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে কর্মপদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
    • অপাদান কারক বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে অপাদানপদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
    • সম্প্রদান কারক বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে সম্প্রদানপদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
    • সম্বোধন কারক বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে সম্বোধনপদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
  • বাক্যের বিভিন্ন পদকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করা: বিভক্তির মাধ্যমে বাক্যের বিভিন্ন পদকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে একটি সুসংগত ও অর্থপূর্ণ বাক্য গঠন করা হয়। যেমন-
    • “আমি বই পড়ছি” বাক্যে “আমি” নামপদের সাথে “পড়ছি” ক্রিয়াপদের মধ্যে কর্তৃকারক বিভক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
    • “ছাত্রকে বই দিলাম” বাক্যে “ছাত্র” নামপদের সাথে “দিলাম” ক্রিয়াপদের মধ্যে কর্মকারক বিভক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
    • “আমার মাকে দেখলাম” বাক্যে “মা” নামপদের সাথে “দেখলাম” ক্রিয়াপদের মধ্যে সম্বোধন কারক বিভক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

কর্ম কারক কত প্রকার ও কি কি?

কর্ম কারক চার প্রকার:

  • মুখ্য কর্ম: যে কর্মপদ ক্রিয়ার প্রধান ভাব প্রকাশ করে, তাকে মুখ্য কর্ম বলে। যেমন-
    • ছাত্রটি বই পড়ছে। এখানে “ছাত্রটি” মুখ্য কর্ম।
    • মাছটি পানিতে সাঁতার কাটছে। এখানে “মাছটি” মুখ্য কর্ম।
  • গৌণ কর্ম: যে কর্মপদ ক্রিয়ার গৌণ ভাব প্রকাশ করে, তাকে গৌণ কর্ম বলে। গৌণ কর্ম দুই প্রকার:
    • উদ্দেশ্য কর্ম: যে কর্মপদ ক্রিয়ার উদ্দেশ্য প্রকাশ করে, তাকে উদ্দেশ্য কর্ম বলে। যেমন-
      • আমি তোমাকে ভালোবাসি। এখানে “তোমাকে” উদ্দেশ্য কর্ম।
      • ছেলেটিকে বই দিলাম। এখানে “ছেলেটিকে” উদ্দেশ্য কর্ম।
    • বিধেয় কর্ম: যে কর্মপদ ক্রিয়ার ফলাফল প্রকাশ করে, তাকে বিধেয় কর্ম বলে। যেমন-
      • আমি বই পড়ে ঘুমিয়ে গেলাম। এখানে “ঘুমিয়ে গেলাম” বিধেয় কর্ম।
      • ছেলেটি বই লিখল। এখানে “লিখল” বিধেয় কর্ম।

কর্ম কারক নির্ণয়ের উপায়:

  • ক্রিয়ার সাথে “কী” দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা কর্ম পদ।
  • বাক্যে যদি দুটি কর্মপদ থাকে, তাহলে যে কর্মপদ ক্রিয়ার প্রধান ভাব প্রকাশ করে, তাকে মুখ্য কর্ম বলে।
  • যে কর্মপদ ক্রিয়ার উদ্দেশ্য প্রকাশ করে, তাকে উদ্দেশ্য কর্ম বলে।
  • যে কর্মপদ ক্রিয়ার ফলাফল প্রকাশ করে, তাকে বিধেয় কর্ম বলে।

কারণ ও কারক কি একই

না, কারণ ও কারক একই নয়। কারণ হলো কোন ঘটনা বা অবস্থার উৎস বা উৎপত্তিস্থল। অন্যদিকে, কারক হলো বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কযুক্ত নামপদ বা পদসমষ্টি।

কারক নির্ণয়ের জন্য আমরা ক্রিয়ার সাথে “কী” দিয়ে প্রশ্ন করতে পারি। যে উত্তর পাওয়া যায়, সেই পদ বা পদসমষ্টিই কারক। যেমন-

নিমিত্ত কারক কাকে বলে
নিমিত্ত কারক কাকে বলে
  • আমি বই পড়ছি। এখানে “আমি” কর্তৃকারক, “বই” কর্মকারক।
  • আমি তোমাকে ভালোবাসি। এখানে “আমি” কর্তৃকারক, “তোমাকে” কর্মকারক।

কারণ নির্ণয়ের জন্য আমরা ক্রিয়ার সাথে “কেন” দিয়ে প্রশ্ন করতে পারি। যে উত্তর পাওয়া যায়, সেই পদ বা পদসমষ্টিই কারণ। যেমন-

  • আমি বই পড়ছি কেন? উত্তর: কারণ আমি বই পড়তে ভালোবাসি।
  • আমি তোমাকে ভালোবাসি কেন? উত্তর: কারণ তুমি আমার বন্ধু।

সম্বোধন পদ কে কারক বলা হয় কেন?

সম্বোধন পদকে কারক বলা হয় না। কারক হলো বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কযুক্ত নামপদ বা পদসমষ্টি। সম্বোধন পদ ক্রিয়াপদের সাথে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করে না। তাই সম্বোধন পদকে কারক বলা যায় না।

সম্বোধন পদ হলো এমন একটি পদ যা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে সম্বোধন করে। এটি বাক্যের অন্য কোনো পদের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। সম্বোধন পদ সাধারণত বাক্যের শুরুতে বা মাঝখানে বসতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ,

  • “হে বন্ধু, তুমি কি ভালো আছ?” এই বাক্যে “বন্ধু” সম্বোধন পদ। এটি কোনো ব্যক্তিকে সম্বোধন করে। কিন্তু এটি বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করে না। তাই এটিকে কারক বলা যায় না।
  • “আমি তোমাকে ভালোবাসি, মা।” এই বাক্যে “মা” সম্বোধন পদ। এটি কোনো ব্যক্তিকে সম্বোধন করে। কিন্তু এটি বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করে না। তাই এটিকে কারক বলা যায় না।

অন্যদিকে, কারক হলো বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কযুক্ত নামপদ বা পদসমষ্টি। কারক প্রধানত ছয় প্রকার:

  • কর্তৃকারক: যে পদ বা পদসমষ্টি ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে।
  • কর্মকারক: যে পদ বা পদসমষ্টি ক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাকে কর্মকারক বলে।
  • করণকারক: যে পদ বা পদসমষ্টি দ্বারা ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে করণকারক বলে।
  • সম্বন্ধকারক: যে পদ বা পদসমষ্টি ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্ক প্রকাশ করে, তাকে সম্বন্ধকারক বলে।
  • অধিকরণকারক: যে পদ বা পদসমষ্টি ক্রিয়াপদের সাথে স্থান, সময়, দশা, দিক ইত্যাদি সম্পর্ক প্রকাশ করে, তাকে অধিকরণকারক বলে।
  • সম্বোধন পদ: যে পদ বা পদসমষ্টি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে সম্বোধন করে, তাকে সম্বোধন পদ বলে।

অনুসর্গ এর অপর নাম কী?

অনুসর্গ এর অপর নাম হলো কর্মপ্রবচনীয়। অনুসর্গ হলো এমন একটি অব্যয় পদ যা বাক্যে ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে। অনুসর্গকে কর্মপ্রবচনীয় বলা হয় কারণ এটি কর্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

অনুসর্গ এর আরও কিছু অপর নাম হলো:

  • কর্ম-সম্প্রদানীয়
  • পরিণামী
  • ক্রিয়া-সম্বন্ধীয়

উদাহরণস্বরূপ,

  • আমি থেকে বেরিয়ে গেলাম। এখানে “থেকে” অনুসর্গ। এটি কর্ম “বেরিয়ে গেলাম” এর সাথে সম্পর্কযুক্ত।
  • আমি দিয়ে তোমাকে বইটা দিলাম। এখানে “দিয়ে” অনুসর্গ। এটি কর্ম “দিলাম” এর সাথে সম্প

বিভক্তি শব্দের অর্থ কি MCQ?

বিভক্তি শব্দের অর্থ হলো বণ্টন। বিভক্তি হলো এমন একটি প্রত্যয় যা বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি পদকে বিভিন্ন কারকে রূপান্তরিত করে।

বিভক্তির MCQ প্রশ্নের উত্তর হলো:

প্রশ্ন: বিভক্তি শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: (ক) বণ্টন

ব্যাখ্যা: বিভক্তি শব্দের অর্থ হলো বণ্টন। বিভক্তি হলো এমন একটি প্রত্যয় যা বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি পদকে বিভিন্ন কারকে রূপান্তরিত করে। তাই বিভক্তির অর্থ বণ্টন হবে।

বাহ্যিক বিভক্তির কারণ কি

বাহ্যিক বিভক্তির কারণ হলো বাক্যের বিভিন্ন পদকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে একটি সুসংগত ও অর্থপূর্ণ বাক্য গঠন করা। বিভক্তির মাধ্যমে নামপদ ও ক্রিয়াপদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

বাহ্যিক বিভক্তির কারণগুলি নিম্নরূপ:

  • বাক্যের বিভিন্ন পদকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করা: বিভক্তির মাধ্যমে বাক্যের বিভিন্ন পদকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে একটি সুসংগত ও অর্থপূর্ণ বাক্য গঠন করা হয়। যেমন-
    • “আমি বই পড়ছি” বাক্যে “আমি” কর্তৃপদ, “বই” কর্মপদ। বিভক্তির মাধ্যমে এই দুটি পদকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
    • “ছাত্রকে বই দিলাম” বাক্যে “ছাত্র” কর্তৃপদ, “বই” কর্মপদ, “কে” অনুসর্গ। বিভক্তির মাধ্যমে এই তিনটি পদকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
  • ক্রিয়ার সাথে নামপদের সম্পর্ক স্থাপন করা: বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে নামপদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। যেমন-
    • কর্তৃকারক বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে কর্তৃপদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
    • কর্মকারক বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে কর্মপদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
    • করণকারক বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে করণপদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
    • সম্বন্ধকারক বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধপদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
    • অধিকরণকারক বিভক্তির মাধ্যমে ক্রিয়ার সাথে স্থান, সময়, দশা, দিক ইত্যাদি সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
  • বাক্যের অর্থ প্রকাশ করা: বিভক্তির মাধ্যমে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করা হয়। যেমন-
    • কর্তৃকারক বিভক্তির মাধ্যমে বাক্যের বিষয় প্রকাশ করা হয়।
    • কর্মকারক বিভক্তির মাধ্যমে বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনকারী বা বিষয়ের উপর প্রভাব বিস্তারকারী বস্তু প্রকাশ করা হয়।
    • করণকারক বিভক্তির মাধ্যমে বাক্যের ক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ব্যবহৃত বস্তু বা উপকরণ প্রকাশ করা হয়।
    • সম্বন্ধকারক বিভক্তির মাধ্যমে বাক্যের ক্রিয়া ও সম্বন্ধ প্রকাশ করা হয়।
    • অধিকরণকারক বিভক্তির মাধ্যমে বাক্যের ক্রিয়া ও স্থান, সময়, দশা, দিক ইত্যাদি সম্পর্ক প্রকাশ করা হয়।
HomeClick Here
Google NewsFollow
Telegram GroupJoin Us

Hello

Leave a comment